সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাউজানে বিএনপি কর্মী খুন

বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার

৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:১১ অপরাহ্ণ
রাউজানে বিএনপি কর্মী খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি কর্মী মো. ইদ্রিস (৩৮) হত্যাকাণ্ডটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশের নিবিড় তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল কারণ উন্মোচিত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ইদ্রিসকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কাছ থেকে জানা গেছে যে, ইদ্রিস হত্যাকাণ্ডটি অর্থের বিনিময়ে সংঘটিত হয়েছে। এই কিলিং মিশনে দুটি আলাদা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী নদীর পাড়ের নির্দিষ্ট বালুমহলের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে মো. ইদ্রিসের তীব্র বিরোধ চলছিল। এই বালুমহলের দখল ঘিরে আর্থিক লেনদেন ও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি যুক্ত ছিল।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো মনে করছে, বিরোধের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ইদ্রিসকে সরাসরি মোকাবিলার ঝুঁকি না নিয়ে পেশাদার খুনিদের দ্বারস্থ হয়। বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে খুনিদের দল এই হত্যার দায়িত্ব নেয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করে। ইদ্রিসকে হত্যার দিনক্ষণ নির্ধারণ করে তারা আগে থেকেই রেকি করে প্রস্তুতি নিয়েছিল।

রাউজান থানা পুলিশ এবং উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা দল যৌথভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তাৎক্ষণিক সফলতার মুখ দেখে। তারা প্রথমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল বহুমাত্রিক, যেখানে অর্থের লেনদেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষমতা উভয়ই জড়িত ছিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং এর সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আজিজ এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে বলেন, "আমরা এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে এর মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি।"

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ জন চিহ্নিত হয়েছে। এই চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ দল জেলার বিভিন্ন স্থানে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এএসপি তারেক আজিজ দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন যে, খুব দ্রুতই সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ-ই আইনের চোখ এড়াতে পারবে না।

Read more — রাজনীতি
← Home